জীবনী- এক নজরে

বাহরুল উলূম হযরত আলহাজ্ব শাহ্ মওলানা মুহাম্মদ কুতুব উদ্দীন রহমতুল্লাহি আলাইহি, (নওয়ারাল্লাহু মারকাদাহু, ওয়াজআলিল-জান্নাতা মাচওয়াহু)।

  • জীবনী- এক নজরে-

নাম                                            : মাওলানা মুহাম্মদ কুতুবউদ্দীন

পিতার নাম : মরহুমমাওলানামুছলেহ্উদ্দীন (মৃত্যু ১৯৫৯)

মাতার নাম                                  : মুছাম্মাৎ রায়হানা বেগম (মৃত্যু ১২ ফেব্রুয়ারী ১৯৯০ ইং, সোমবার)

জন্ম তারিখ                                   : ১লা জানুয়ারী ১৯৪২ইং।

মৃত্যুতারখি                                    : ২০ মে ২০২০ইং মোতাবেক ২৬ রমজান ১৪৪১ হিজরী, ০৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ বাংলা রোজ বুধবার দুপুর ২.৩০ মি.।

স্থায়ীনিবাস                                   : গ্রাম- সূফীমিয়াজীপাড়া (হাতিয়ারপুল), ডাকঘর- আধুনগর, লোহাগাড়া, চট্টগ্রাম।

বর্তমানঠিকানা                               : বায়তুশ শরফ কমপ্লেক্স, ধনিয়ালাপাড়া, ডিটি রোড, চট্টগ্রাম।

প্রাতিষ্ঠানিকশিক্ষা                             : ঐতিহ্যবাহী চুনতী হাকিমিয়া আলীয়া মাদরাসা হতে ১৯৫৩ সালে দাখিল- ২য় বিভাগ ও ১৯৫৫ সালে আলিম- ১ম বিভাগ (মেধাতালিকায় ১৫শতম স্থান) এবং ১৯৫৭ সালে ফাজিল- ১ম বিভাগ (মেধাতালিকায় ৫মতম স্থান) এবং শতাব্দীর প্রাচীন দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দারুল উলূম আলীয়া মাদরাসা হতে ১৯৫৯ সালে কামিল ১ম শ্রেণীতে ১ম স্থান অর্জন করে ‘ইস্ট পাকিস্তান মাদরাসা এডুকেশন বোর্ড’ কর্তৃক প্রদত্ত‘গোল্ড মেডেল’লাভ করেন।

শিক্ষাগত ব্যুৎপত্তি অর্জন                 : এছাড়াও সমকালীন যুগশ্রেষ্ঠ আলেমদের সান্নিধ্যে থেকে কুরআন, হাদীস, তাফসীর, ফিকাহ্, উসূলে ফিকাহ্, বালাগাত, মানতিক, ইলমুলকালাম, আরবীভাষা ও সাহিত্য এবং তাসাউফশাস্ত্রের উপর উচ্চতর জ্ঞান অর্জন করেন।

সাংস্কৃতিক দক্ষতা অর্জন                    : তিনি উর্দূ, ফার্সী, আরবী কবিতা রচনায় সমকালীন যুগে শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছেন। একাধারে কবিতা ও নাত, গযল আবৃত্তিতে পরিবেশনায় অসাধারণ পারদর্শী।

ভাষাগত দক্ষতাঅর্জন                        : তিনি অনর্গল আরবী, উর্দূ, ফার্সী ভাষায় কথা বলতে পারেন। আরবী, উর্দূ, ফার্সী ভাষার চলন্ত ডিকশনারী ছিলেন।

বৈবাহিকজীবন                               : ২৬/১১/১৯৬১সালে সাতকানিয়া রূপকানিয়া নিবাসী হাকীম মাওলানা শফিক আহমদের জৈষ্ঠ্য কন্যা মুহতরমা তাহেরা বেগমের সাথে প্রণয় সূত্রে আবদ্ধ হন। (সূত্র : হাকীম শফিক আহমদের ডায়রী)

সন্তান-সন্ততি                                  : ১ পুত্র ও ৬ কন্যা সন্তানের জনক।

পেশা                                           : দীর্ঘ ৫১ (একান্ন) বৎসর শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত ছিলেন, এছাড়া অধ্যক্ষ, মুহাদ্দিস, ইমাম ও খতীব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

প্রশিক্ষণ                                        : বাংলদেশ মাদরাসাশিক্ষা বোর্ড, ঢাকা এর প্রত্যক্ষ তত্বাবধানে পরিচালিত মাদরাসা শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট থেকে তিনি সফলতার সাথে ১৯৯৫ সনে প্রশিক্ষণ সমাপ্ত করেন।

পুরস্কার/পদক/সার্টিফিকেট                 : তাঁর প্রজ্ঞা, দূরদর্শিতা, প্রত্যুৎপন্নমতিসম্পন্ন ব্যক্তিত্বের কারণে এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখায় তিনি বিভিন্ন সময়ে পুরস্কৃত হয়েছেন। তাঁর বাগ্মীতা, সাবলীল বাচনভঙ্গী, দৃষ্টিনন্দন সর্বজন স্বীকৃত। ১৯৯৮ সালে তিনি চট্টগ্রাম জেলা শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে জেলার“শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান”হিসাবে পুরস্কার লাভ করে বিরল সম্মানের অধিকারী হন। সমাজকল্যাণের ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখার জন্য চট্টগ্রাম সমাজ কল্যাণ পরিষদ কর্তৃক “শ্রেষ্ঠসমাজসেবী স্বর্ণপদক -৯৮” লাভে ধন্য হন।

শ্রেষ্ঠঅধ্যক্ষ                                    : ‘শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান (অধ্যক্ষ)’ -এর‘জাতীয়পুরস্কার’। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখহাসিনা স্বয়ং ২০০০ সালে তাঁকে ‘স্বর্ণ পদকে’ভূষিতকরেন।  তাঁর অধক্ষ্য থাকাকালীন সময়ে মাদরাসা দুইবার জাতীয়ভাবে শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্বাচিতহয়।

ওয়ায়েজ                                       : সুদীর্ঘ ৬০ বৎসর যাবত উম্মতের একজন শ্রেষ্ঠ ওয়ায়েজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

ক্রেস্ট ও মানপত্র লাভ                       : এ পর্যন্ত পাঁচশতেরও অধিক পুরস্কার, মানপত্র ও ক্রেস্ট লাভকরেন।

পীরমুর্শীদ                                     : কুতুবুল আলম শাহ সূফী হযরত মাওলানা মীর মুহাম্মদ আখতর (রাহ. মৃত্যু ১৯৭১) ও হাদিয়ে যমান হযরত শাহ সূফী মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুল জব্বার (রাহ. মৃত্যু ১৯৯৮ইং)

বায়আত                                       : চুনতী মাদ্রাসায় পঞ্জুম (বর্তমান ১০ম শ্রেণী) শ্রেণীর ছাত্র থাকাবস্থায় (১৯৫২) তখন কুমিরাঘোনা মাহফিলে ঈছালে ছাওয়াবের সময় কলাউজানের কারী নুরুল হুসাইনের (বর্তমানেমৃত) (চুনতী মাদ্রাসার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, ছাত্রজীবনে আমাদের বাড়িতে জায়গীর ছিলেন) মাধ্যমে হযরত কেবলা (রাহ.)-এর পবিত্র হস্ত মোবারকে বায়আত হন।

পীর-মুর্শীদের একান্ত সান্নিধ্য               : সুদীর্ঘ ২৮ বছর (১৯৬৯-১৯৯৭ইং)

খেলাফতলাভ                                  :  ১৯৯৮ সালের ২৫ মার্চ হাদিয়ে যামান (যুগের সংস্কারক) শাহ সূফী হযরত মাওলানা মোহাম্মদ আব্দুল জব্বার (রাহ.)-এর ইন্তেকালের পর এ বিশাল দরবারের দায়িত্ব ভার তাঁর স্কন্ধে অর্পিতহয়। তিনি তা দৃঢ় আস্থার সাথে ধারণ করেন।

তিনি যে সব সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত (পদবীসহ) :

(১) সভাপতি- আনজুমনে ইত্তেহাদ বাংলাদেশে (জাতীয় পর্যায়ে নিবন্ধনকৃত মসজিদ ভিত্তিক মানব কল্যাণ সংগঠন), (২) সভাপতি- বায়তুশ শরফ ইসলামী গবেষণা প্রতিষ্ঠান, (৩) সভাপতি- আনজুমনে নওজোয়ান বাংলাদেশ, (৪) চেয়ারম্যান- বায়তুশ শরফ ফাউন্ডেশন, (৫) সভাপতি- মজলিসুল উলামা বাংলাদেশ, (৬) সদস্য- আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যায় ট্রাস্টি বোর্ড, চট্টগ্রাম। (৭) চেয়ারম্যান শরীয়াহ্ বোর্ড- ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লি. ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক লি., (৮) সহসভাপতি- চুনতি হাকিমিয়া আলিয়া মাদরাসা, (৯) সহসভাপতি- লোহাগাড়া আধুনগর ইসলামিয়া সিনিয়র মাদরাসা, (১০) সভাপতি- বায়তুশ শরফ জব্বারিয়া এতিমখানা, (১১) সভাপতি- সূফী মিয়াজী পাড়া ফোরকানিয়া মাদরাসা কমিটি, (১২) সভাপতি-আখতরাবাদ কুমিরাঘোনা আখতরুল উলূম মাদরাসা, লোহাগাড়া, (১৩) আজীবনসদস্য- চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমাজকল্যাণ ফেডারেশন, (১৪) আজীবনসদস্য- চট্টগ্রাম সমাজ কল্যাণ পরিষদ, ১৫) দাতা- হযরত খাদিজাতুল কোবরা (রা.) বালিকা এতিমখানা, পূর্ব বড় ভেওলা, চকরিয়া।

প্রতিষ্ঠা ও উন্নয়নসাধন                      : মরহুম হুজুরের প্রতিষ্ঠিত প্রত্যেক বায়তুশ শরফ মসজিদের উন্নয়ন ও নতুন মসজিদ প্রতিষ্ঠিত করেছেন এবং অনেকগুলো এতিমখানা ও হিফজখানা, মাদরাসা, দাতব্য চিকিৎসালয় প্রতিষ্ঠিত করেছেন। মাসিকদ্বীন-দুনিয়ার পাশাপাশি শিশু-কিশোরদ্বীন-দুনিয়া প্রকাশের ব্যবস্থা করেছেন।

অমরকীর্তি                                    : অনেক গুলো মসজিদ ও মাসরাসা নির্মাণ করেছেন।

সেমিনারআয়োজন                            : ১.সীরাত সাহিত্যের বিকাশধারা, ১৯৯৮, ২. আধুনিকতা উত্তরকালে সূফিবাদ অনুশীলন, একটিসমীক্ষা, ৩.মুজাদ্দিদ আলফেসানীর আধ্যাত্মিকতা‘ওয়াহ্দতুশশুহুদ’বা প্রকাশ মূলে একত্ববাদ।  ৪. ‘আবদুর রহমান জামী রাহ. ও তাঁরকাব্যে না’ত সাহিত্য। এছাড়াও আরো অনেক সেমিনার হয়েছে যেগুলোর রেকর্ড হারিয়ে গেছে।

আর্তমানবতারপাশে                          :  ১৯৯৮ সালে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে। ২০০০ সালে সাতক্ষীরায় বন্যা দুর্গতদের মাঝে ব্যাপক ত্রাণ তৎপরতা পরিচালনাকরেন। ২০০৪ সালে ঢাকার কাঁচপুর, ধামরাইয়ে, বাড্ডা সাঁতারকুল বন্যা দুর্গতদের ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন। ২০০৭ সালের‘সিডর’ ও ২০০৮ সালের‘আইলায়’আক্রান্ত পটুয়াখালীর বরগুনায়, খুলনা-বাগেরহাট ও সাতক্ষীরার প্রত্যন্ত অঞ্চলে লক্ষ লক্ষ টাকার ত্রাণ সামগ্রী খুলনা শাখা আনজুমনে ইত্তেহাদের মাধ্যমে  সুষ্ঠুভাবে বিতরণ করা হয়। ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের কে হুজুর কেবলা ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন। কক্সবাজার বায়তুশ শরফের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ২০২০ সালে করোনা র্দুযোগে ধনয়িালাপাড়া-সুপারিওয়ালা পাড়ায় ত্রাণ বিতরণ করেন।

ঐতিহাসিক দোয়া-মুনাজাত                 : ‌১) ঈছালে ছওয়াব মাহফিল, আখতরাবাদ (কুমিরাঘোনা, লোহাগাড়া, চট্টগ্রাম)। ২) ঈছালে ছওয়াব মাহফিলকক্সবাজার। ৩) শবেবরাত, ও শবে ক্বদরের ঐতিহাসিকমুনাজাতকরেন। এছাড়াও খুলনা-বাগেরহাট মাহফিলে, ঢাকা বায়তুশ শরফ মাহফিলে মুনাজাতা করেন।  

যাদের সাথে ছিল তাঁর আন্তরিক বিশেষ হৃদ্যতা : হযরত সৈয়দ আব্দুল আহাদ আল-মাদানী (রাহ.), গারাঙ্গিয়ার বড় হুজুর শা হ্সূফী হযরত মাওলানা আব্দুল মজীদ, ছোট হুজুর হযরত মাওলানা আব্দুর রশীদ (রাহ.), মাসিক মদীনার সম্পাদক আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব হযরত মাওলানা মুহীউদ্দীন খান (রাহ.), হযরত মাওলানা মোহাম্মদ সুলতান যওক নদভী, এস.আলমগ্র গ্রুপের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সাইফুল আলম মাসুদ, আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকলি. এর চেয়ারম্যান জনাব আলহাজ্ব আবদুস সামাদ লাবু, আইএমএস গ্রুপের চেয়ারম্যান জনাব আলহাজ্ব আবুল বশর আবু। এছাড়াও সমকালীন বাংলাদেশের প্রত্যেক ঘরানার বড় বড় আহলে হক ওলামায়ে কেরামের সাথে সুসম্পর্ক ছিল।

পুস্তক রচনা ও অনুবাদ                     : বিভিন্ন বই পাঁচটি। প্রায় এক হাজারের উর্ধ্বে কবিতা নিয়ে তাঁর কালজয়ি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিতহয়েছে।

পবিত্র হজ্ব ও ওমরাহ পালন               : বাংলাদেশ তথা পুরো বিশ্বে সমকালে রেকর্ড সংখ্যক  পঞ্চাশ (৫০) বার এর অধিক হজ্ব ও ২০ বারের অধিক ওমরাহ পালন করেন।

যিয়ারত                                       : ১৯৮০, ১৯৯৮ সালে বাগদাদ শরীফ যিয়ারতকরেন, আজমীর শরীফ সফর করেন। এছাড়াও বাংলাদেশ সহ বহির্বিশ্বের বিভিন্ন আউলিয়া কিরামের মাযার যিয়ারতকরেন।

বিদেশ সফর                                  : ভারত, পাকিস্তান, ইংল্যান্ড, ইরাক, জর্ডান, ফিলিস্তিন, কাতার, সৌদীআরব ও সংযুক্ত আরবআমিরাত।

সংস্কারকার্যক্রম                              : শাহ্ পীর আউলিয়ার মাজার, বাগেরহাট হযরত খানজাহান আলী (রাহ.)-এর মাজার, ষাট গম্বুজমসজিদ, জবলে সীরতসহ দেশব্যাপী বায়তুশ শরফ ও বিভিন্ন জায়গায় যখনি সুযোগ হয়েছে সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন।

প্রতিবাদ-প্রতিরোধ                           : কুরআন-সুন্নাহ বিরোধী,  রাষ্ট্রীয় নিরাত্তা বিরোধী যাবতীয় অনৈতিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে আজীবন তিনি সোচ্চার ছিলেন।

ব্যাংকের শরীয়াহ্ বোর্ডের চেয়ারম্যান    : ইসলামী ব্যাংক শরীয়াহ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন ২০০৮ইংএবং ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড এর শরীয়াহ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন ২০০৯ ইং সালে।

প্রিয় সখ                                       : এতিম ও হাফেজদের লালন-পালন, অধ্যয়ন করা, কবিতা লেখা, নাত-গযল পরিবেশন করা, ওয়াজ করা।

প্রিয়গ্রন্থ                                        : মসনবীশরীফ, মিশকাত শরীফসহ আরোঅনকে।